নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, সারাজীবন মানুষ আমারে বলছে আমারে দিয়ে কিছু হবে না। আমি রেবতী মোহন স্কুলে পড়েছি। আমি এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়ার পর টিচাররা বলছে ওর তো এ প্লাস পাওয়ার কথা ছিল না। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ল’তে চান্স পেয়েছি, তখন আশেপাশের মানুষ বলেছে ওর তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার কথা ছিল না। এমনকি বিয়ের সময় বলেছে, ওরে তো কেউ মেয়ে দেয়ার কথা ছিল না। সবশেষ আমি যখন ইলেকশন করি, তখনও অনেকে বলেছে ওর তো এমপি হওয়ার কথা ছিল না। এভাবে মানুষ যে মনে করে যেটা আমার দ্বারা হওয়া সম্ভব না, সেটাই আমার দ্বারা হয়।

সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত জিপিএ ৫ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ৪ আসনের এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ।

এমপি বলেন, ‘প্রতি বছর অসংখ্য জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর পাশাপাশি, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জজ, ব্যরিষ্টার, আমলা তৈরী হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ যেই অবস্থায় ছিলো সেই অবস্থাতেই থেকে গেছে। তারা মেধাবী এবং দক্ষ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বেশীরভাগই দেশের কল্যানের বদলে নিজের কল্যানে বেশী মনযোগী ছিলেন। আমরা যদি যার যার অবস্থান থেকে দেশপ্রেম, সততা, সৎ সাহস দেখাতে পারি। তাহলে বাংলাদেশ সুন্দর হবে।’

আল আমিন বলেন, ‘২৪ এর আন্দোলনে আপনারা সবাই যুক্ত ছিলেন বলেই দেশ পরিবর্তন হয়েছে। অনেকে রাস্তায় নামতে পারেননি, কিন্তু জানালা দিয়ে পানি খাবার দিয়েছেন। বাংলাদেশ পরিবর্তন হওয়ার জন্য সবাইকে একই কাজ করতে এমন কোন কথা নেই। কিন্তু নিজ নিজ স্থান থেকে যদি পজেটিভ কাজ করি সেটাই পরিবর্তনে সহায়তা করবে। আর যদি আমরা আমলা হই, রাজনীতিবিদ হয়ে অসৎ কাজ করি। তাহলে এই মেধা আমার দেশের কোন উপকারে আসবে না।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের ভেতর বক্তব্য রাখেন, ‘নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি, জেলা এনসিপির আহবায়ক যুবায়ের সরদার, মহানগর এনসিপির আহবায়ক শওকত আলী, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদাসসের চৌধুরী প্রমুখ।’