রাজধানীর মিরপুর, সাভার, গাজীপুর এবং আশুলিয়াতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের শিল্প কারখানা অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে কোন ধরনের অরাজকতা হবে না এমন বার্তা এলেও দিনশেষে সফলভাবে অরাজকতা চালাতে সক্ষম হয়েছে আওয়ামী লীগ। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ রাস্তায় নেমে বিএনপির ব্যানার পুড়িয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে নারায়ণগঞ্জে।

সোমবার দুপুর ১২ টায় পূর্বপরিকল্পিত ভাবে ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার কারখানায় অরাজকতা শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মেট্রো কারখানা থেকে শ্রমিকদের নামিয়ে এনে এরপর আশেপাশের বিভিন্ন ছোট বড় কারখানা থেকে নামিয়ে আনা হয় শ্রমিকদের। মিছিল নিয়ে অবরোধ করা হয় শিবু মার্কেট মোড়। বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের যান চলাচল।

শ্রমিকদের একটি অংশকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে সাইনবোর্ড অভিমুখে রওনা হয় নিষিদ্ধ সংগঠনেরর নেতাকর্মীরা। প্রত্যেকের হাতে তুলে দেয়া হয় বাশ ও লাঠি। ভুইগড় এসবি গার্মেন্টস থেকে শ্রমিকদের নামাতে গেলে বাধা দেয় মালিকপক্ষ। এরপরেই তারা হামলা ও ভাংচুর চালায় এসবি গার্মেন্টসে। ইট পাটকেল ছুড়ে ভেঙ্গে দেয়া হয় কারখানার জানালার কাঁচ।

তবে পুলিশের বাঁধার মুখে শ্রমিকদের বিক্ষোভটি সাইনবোর্ড যেতে পারেনি। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের লক্ষ্য থাকলেও তা সফল হতে দেয়নি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে দিনভর তৎপর দেখা গেছে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনের গতিবিধি নিয়ন্ত্রন করেছে তারা। এমনকি আন্দোলনের ভেতরে প্রবেশ করে নানানভাবে উস্কানি দিয়েছে শ্রমিকদের। সেই সাথে গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করার জন্য বার বার উস্কে দিয়েছে তারা।

প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় আগুন ধরানোর সামনের সাড়িতে আছে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শ্রমিকবেশে আন্দোলনে প্রবেশ করেছে তারা। সেই সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যানারে আগুনও ধরিয়ে দেয়া হয়।

ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে জানা গেছে, বড় ৬ টি এবং ছোট ১৪/১৫ টি কারখানা বন্ধ করা হয়েছে এই আন্দোলনে। কারখানাগুলো ছুটি ঘোষণার মাধ্যমে সেখান থেকে শ্রমিক নামিয়ে এনে রসদ দেয়া হয়েছে আন্দোলনে। তবে অধিকাংশ শ্রমিকরাই এই আন্দোলনে একাগ্রতা প্রকাশ না করে ফিরে গেছেন বাসা বাড়িতে।

এই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি বলেন,  সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফুটেজে কয়েকজন দুষ্কৃতকারীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যারা সরাসরি ইন্ধন দিচ্ছে। এসব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

বিকেএমইএ’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘এখানে পরিকল্পিত ভাবে সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্য এসব করা হচ্ছে। এই সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা চলছে। আমরা সরকারকে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছি যে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা যেতে পারে। কিন্তু সেখানে রাজপথ দখল করে দেশের অর্থনীতি ক্ষতি করার অধিকার কারও নেই।’