নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। হাসপাতালটি ৩০০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলমান থাকায় কয়েকটি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে এসব বিভাগের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রোববার (১২ অক্টোবর) নগরীর খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের হাসপাতালগুলোতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরও রাখা হয়েছে, যাতে হাসপাতালগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে হাসপাতালটিতে বিদ্যমান বিভিন্ন ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনা শনাক্ত করে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা দূর করার লক্ষ্যে সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
হাসপাতালের জনবলসংকট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে চিকিৎসকসহ অন্যান্য কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। এর পাশাপাশি ৩০০ শয্যার হাসপাতালটিকে ৫০০ শয্যায় রূপান্তরের কাজ চলায় কয়েকটি বিভাগের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে বন্ধ বিভাগগুলো আবারও চালু করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, ১৫ তলাবিশিষ্ট হাসপাতাল কমপ্লেক্সের সাততলার নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে হাসপাতালটিকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা সম্ভব হবে। এতে নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দারা আরও সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এদিকে, সভা চলাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও রোগীদের পরীক্ষার সুবিধা বাড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ হাজার ৭০০টির বেশি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এসব কিট হস্তান্তর করেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক শহিদুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুল হাসান তাপস, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর আলম মিয়া, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং সংসদ সদস্য আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউছার আশাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।










