দীর্ঘ ৫১ বছর পর নারায়ণগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে বিএনপিপন্থী প্রার্থীদের পৃথক প্যানেল থাকলেও অপরাপর প্রার্থীদের কোন প্যানেল ছিলো না। অর্থ্যাৎ আগেই দুর্বল হয়ে পড়েন প্যানেলের বাইরের প্রার্থীরা। তবে নির্বাচনের দিন ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠেছে প্রার্থী ও ভোটারদের তরফ থেকে।
এবারের নির্বাচন শুরু থেকেই অনেকটা একক জয়ের পথে ছিলো বিএনপিপন্থীদের প্যানেল। ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নবী হোসেনকে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় জয় নিশ্চিত করতে আপোষ করে বসিয়ে দেয়া হয়। এরপর একে একে বসে যায় সদস্য পদে নির্বাচনে আগ্রহী থাকা মেহেদী হাসান সজীব, জিএম হায়দার আলী, আমিনুর ইসলাম মিঠু, ইফতেখার আহমেদ জিমু।
এরপরেও নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। নির্বাচনের দিন ভোট প্রদানের পরপরেই অভিযোগ তুলেন বিএনপি নেতা ও জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক আনিসুল ইসলাম সানি। তিনি বলেন, ‘সম্পুর্ন বিশৃঙ্খল নির্বাচন হয়েছে। সর্বকারের সর্ব রাফ নির্বাচন হয়েছে। ভোট জালিয়াতি হতে পারে এই অবস্থায়। ভোটার লিস্ট ঠিক নেই। এটা মনে হয় অযোগ্য কমিশনের অধীনে আমরা ভোট দিতে গেলাম। ভোটারের সিরিয়াল ঠিক নেই, নামের বানানের ঠিক নেই।
সবচেয়ে বড় কথা হলো নির্বাচনী তফসিলের কোন নীতিমালার মধ্যেই কমিশন ছিলো না। এভাবে একটি নির্বাচন হতে পারে না। আমি নারায়ণগঞ্জ ক্লাব ও হোসিয়ারি এসোসিয়েশনের নির্বাচন করেছি। সেখানে নির্বাচন কমিশনার ছিলাম। নির্বাচনের নিয়ম কানুন জানি। এখানে পক্ষপাতমূলক নির্বাচন কমিশনার হয়েছে, পক্ষপাতিত্বমূলক নির্বাচন হয়েছে।’
সাধারন সম্পাদক প্রার্থী রেজাউল করীম খান রেজা বলেন, ‘আমরা দাবী করেছিলাম এনআইডি নিয়ে ভোট গ্রহণ করা হোক। কিন্তু এনআইডি ছাড়াই লোকজন প্রবেশ করেছে এবং তাদের ভোট দিতে দেয়া হয়েছে। ভোটারদের নাম পাওয়া যায় না, নাম্বার পাওয়া যায় না। ভোটার লিস্ট দুই রকম।
প্রথমদিকে ভোট সুষ্ঠু হচ্ছিলো। কিন্তু পরে অনিয়ম শুরু হয়েছে। আমরা কিছুই নিয়ন্ত্রন করতে পারিনি। জালভোট হয়েছে অনেক। জাল ভোট দিতে যাওয়ার পর কয়েকজনকে বের করে দেয়া হয়েছে। একজন ভোট দিতে এসে দেখে তার ভোট দেয়া হয়ে গেছে।’
সদস্য পদে নির্বাচন করা নিরব রায়হান বলেন, ‘গেটের ভেতরে প্রার্থীর কোন লোক থাকবেনা এমন নির্দেশনা ছিলো, কিন্তু সেটা মানা হয়নি। নির্বাচন কমিশন ভুমিকা রাখতে পারেনি। প্রার্থীর লোকজন গোপন কক্ষ পর্যন্ত পৌছে গেছে। আমার এজেন্ট ১৫ জন জাল ভোটারকে চিহ্নিত করেছিলো। ভোটার তার বাবার নাম বলতে পারে না। আমার একজন ভোটার এসে দেখে তার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। আমার নির্বাচনী ব্যানার নষ্ট করে দেয়া হয়েছে।
জুলাই পরবর্তী সময় এমন একটি নির্বাচন উপহার দিয়েছে কমিশন। পুরো নির্বাচনটাই সিলেকশনের দিকে আগাচ্ছিলো। আমাদের অটুট অবস্থানের কারনে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু আমরা গণতান্ত্রিক নির্বাচন দেখিনাই। আমরা দেখলাম এই সরকারের আমলে নির্বাচন কেমন হবে তা রেড ক্রিসেন্টের নির্বাচনেই উদাহরণ দেখলাম।’










