নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়ি ইউনিয়নের একমাত্র মহিলা মাদ্রাসা ‘ইসলাহুল উম্মাহ মহিলা মাদ্রাসা’ আগুনে পুড়ে গেছে।। এতে আসন্ন বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে মাদ্রাসার টিনশেড ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। সে সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী ভবনের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিল। আগুন টের পেয়ে দ্রুত ঘুম থেকে উঠে বাইরে বেরিয়ে আসে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও মাদ্রাসার আসবাবপত্র, টাকা, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে যায়।
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা শামসুল হক বলেন, আগুনের সময় আমি আড়াইহাজারের বিশনন্দী এলাকায় একটি মাহফিলে উপস্থিত ছিলাম। তখনই আমি মাদ্রাসা পুড়ে যাবার খবর পাই। এসে দেখি আগুনে ভবনের কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই।
তিনি বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ কওমি বোর্ড ও আঞ্চলিক বোর্ডের পরীক্ষায় মাদ্রাসাটির ফলাফল বেশ ভালো। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি আগুনে পুড়ে যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই বিপাকে পড়েছেন।
মুহতামিম আরও জানান, মাদ্রাসার নিজস্ব তহবিলের অর্থ, শিক্ষার্থীদের বেতন ও পরীক্ষার ফি এবং শিক্ষিকাদের কাছে সংরক্ষিত শিক্ষার্থীদের মূল্যবান জিনিসপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসন্ন বোর্ড পরীক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত মাদ্রাসাটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব না হলে অনেক শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এ পরিস্থিতিতে আড়াইহাজারের সংসদ সদস্যসহ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানটি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিশ্চিত হবে,।
এদিকে, আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সবজেল হোসেন বলেন, মাদ্রাসায় আগুনের বিষয়ে আমি অবগত নই। আমাকে লিখিতভাবে, সরাসরি কিংবা ফোনে কেউ কিছু জানানো হয়নি।
কালাপাহাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম ফাইজুল হক ডালিম বলেন, ঘটনাটি জানতে পেয়েছি।। শীগ্রই স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করে মাদ্রাসাটিকে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।










