সম্প্রতি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগে আবারও ‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা চলছে। খোদ পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য আসার পর, অনেকে সাময়িক স্বস্তির দোহাই দিয়ে এই ব্যবস্থার পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করছেন।

অথচ বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনামলে ক্রসফায়ারের নামে চালানো গুম, খুন ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ভয়াবহতা সবার জানা।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ কখনোই কোনো সমাজের স্থায়ী আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারে না; বরং এটি অপরাধ দমনের নামে রাষ্ট্রকে নিজেই অপরাধীতে রূপান্তরিত করে। অতীতে এই হাতিয়ারটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন, ভিন্নমত স্তব্ধ করা এবং নিরীহ মানুষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে।

টেকনাফের মেজর সিনহা কিংবা কাউন্সিলর একরামুল হকের লোমহর্ষক অডিও রেকর্ড আমাদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়। এই সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেলে তা সাধারণ নাগরিকদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে ওঠে।

একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের প্রধান শর্তই হলো আইনের শাসন ও মানবাধিকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাই একমাত্র পথ। আইনের বিকল্প কখনো বেআইনি পথ হতে পারে না।

যারা আজ ক্ষোভ থেকে ক্রসফায়ারকে বৈধতা দিচ্ছেন, তারা দানবীয় সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করছেন। সভ্য সমাজে অপরাধীর বিচার হবে প্রচলিত আদালতেই, কোনো বাহিনীর বন্দুকের নলে নয়।

লেখক- মোঃ বিপ্লব খাঁন, সমন্বয়কারী, নারায়ণগঞ্জ মহানগর গণসংহতি