রাজধানীর মিরপুর, সাভার ও গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষের জের ধরে অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে শিল্প কারখানাগুলো। হাজারো শ্রমিকরা সড়কে নেমে এসে বিক্ষোভ করেছে। এরই মধ্যে আন্দোলনে রসদ জোগাতে সুযোগ নিচ্ছে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো। নারায়ণগঞ্জের কল কারখানাগুলোতে কোন ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও শ্রমিকদের উস্কানি দিতে দেখা গেছে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।
রোববার বিকেল থেকে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক উস্কানি দিতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জেলা পর্যায়ের নেতা ও অয়ন ওসমানের অনুসারী আল আমিন বিন কবির ফেসবুকে লিখেন, ‘নারায়ণগঞ্জের পোশাক শ্রমিকরা কি স্বস্তিতে দিন পার করছেন? ঢাকা গাজীপুর উত্তাল। আপনাদের অবস্থান ও দুর্দশার কথা তুলে ধরুন। নারায়ণগঞ্জের রাজপথে আপনাদের প্রতিবাদ গড়ে তুলুন।
মহানগর ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান তন্ময় ফেসবুকে লিখেন, ‘২ বেলা ভাত জোগাড় করতে আজ সরকারের পুলিশ বাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে আমার মত শ্রমিক ভাইরা। সারা বাংলার শ্রমিক এক হও, ন্যায্য অধিকার বুঝে নাও।’
এর বাইরেও পদপদবী না থাকা অসংখ্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের দেখা গেছে উস্কানি দিতে। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকরা যেন আন্দোলন শুরু করেন সেই পরামর্শ দিতে দেখা যায় তাদের।
গোয়েন্দা সংস্থার দুজন কর্মকর্তা জানান, নারায়ণগঞ্জে এই মুহুর্তে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার শংকা নেই। কোন কারখানাতেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী হওয়ার অবস্থা নেই। তারপরেও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। কোন অবস্থাতেই যেন নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন উস্কানি দিতে না পারে সেই দিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।
জেলা পুলিশের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকার শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের অনুসারী কয়েকজন চেষ্টা করছে গোপনে উস্কানি দিয়ে শিল্প কারখানায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করার জন্য। তাদের কার্যক্রমের উপর নজরদারি চলছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য হুঁশিয়ারি বার্তা উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক কর্মকান্ডকে ঘিরে। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকেরাও নিজেদের দাবি দাওয়া নিয়ে মাঠে নেমেছে। এ সুযোগে আন্দোলনে লীগ প্রবেশ করেছে এবং উস্কানি দিচ্ছে, নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে, এটাও স্পষ্ট। অতিদ্রুত দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।
আওয়ামী লীগ যাতে সুযোগ না পায়, এ ব্যাপারে আমাদের সবার সতর্ক থাকা উচিত। শ্রমিকদেরও সতর্ক করতে হবে। সরকারকেও দ্রুত সমাধানে যেতে হবে। দেরী করলে অরাজকতা বাড়বে। শ্রমিকের আন্দোলনকে উছিলা করে যেসব নিষিদ্ধ লীগের লোকজন দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং লীগের প্রত্যাবর্তনের আশায় মাঠে নেমেছে তাদের পিঠের চামড়া তুলে ফেলতে হবে। কিন্তু শুধু লীগের উপর দায় চাপিয়ে প্রকৃত শ্রমিকের দাবি উপেক্ষা করলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা সমাধান হবে না।’










