নারায়ণগঞ্জ শহরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে একটি মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সভাপতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে।

 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত দশটার দিকে চাষাঢ়ায় সায়েম প্লাজার নিচতলায় অবস্থিত একটি  প্রসাধনী পণ্য বিক্রির দোকানে এ ঘটনা ঘটে। এসময় মারধরের শিকার হন দোকান মালিক হাসান ইমাম (৭০)। তিনি সায়েম প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি।

 

মারধরের ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। সেখানে দেখা যায়, মহানগর বিএনপির নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে একদল যুবক দোকানে থাকা হাসান ইমামকে টেনে বের করে আনছেন। সেই সাথে তার মাথায় অনবরত কিল ঘুষি মেরে যাচ্ছেন।

 

ঘটনার বিবরণ দিয়ে হাসান ইমামের ছোটভাই জুয়েল বলেন, আমি দোকানে আমার ভাইয়ের সাথে ছিলাম। রাতে টিপুর নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন বিএনপির নেতাকর্মী এসে আমার ভাইকে বলে তুই আওয়ামী লীগ করোস। এরপরেই দোকান থেকে টেনে বের করে মারধর করা হয়। আমার ভাই দোকান মালিক সমিতির সভাপতি। সে কোন রাজনৈতিক দল করে না। মিথ্যা অভিযোগ তুলে মারধর করা হয়েছে।

 

এদিকে মারধরের পর রাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন হাসান ইমাম। তার ছেলে নাইমুল হাসান বলেন, আমার বাবা রাত ৩ টার দিকে বমি করতে শুরু করে। সাথে সাথেই তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তার অসুস্থতার উপসর্গ দেখে আমরা ভেবেছি তিনি স্ট্রোক করেছেন। তবে ডাক্তার স্পষ্ট ভাবে কিছু জানায় নি। তার মাথায় আঘাত করার কারনে বমি করেছেন বলে জানিয়েছে। তিনি আপাতত পর্যবেক্ষনে আছেন।

 

এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নিবেন কিনা এমন প্রশ্নে বলেন, আমরা আগে বাবার সুস্থতা নিয়ে চিন্তা করছি। তিনি সুস্থ হবার পর পরিবারের সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

 

এদিকে, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু দাবি করেন, হাসান ইমাম আওয়ামী লীগের সরাসরি কোনো কমিটিতে না থাকলেও সে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা। সাম্প্রতিক সময়ে মিছিলে মিছিলগুলোতে হাসান ইমাম অর্থায়ন করেছেন বলে অভিযোগ তার।

 

টিপু বলেন, “সে হলো আজমেরী ওসমান ও শাহ নিজাম এর লোক। বিগত দিনে সে অনেক অপকর্ম করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের দিনেও ওসমান পরিবারের সঙ্গে থেকে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালিয়েছে। সে গুলশানের মতো নারায়ণগঞ্জে আরেকটা  করার জন্য ফান্ডিং করেছে। এমন খবর পেয়ে আমি ও সাথে কয়েকজন লোক দোকানে গিয়েছিল। সেখানে উত্তেজনাবশত কয়েকজন তাকে চর-থাপ্পর দিয়েছে। আমিই তাদের থামিয়েছি।”

 

এই বিষয়ে সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা ভিডিও দেখেছি। তবে এই ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”