ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে চলাচলের সুবিধার জন্য তিনটি আন্ডারপাস নির্মান করা হয়েছে। যেগুলো যথাক্রমে শিবু মার্কেট, জালকুড়ি ও ভুইগড় স্ট্যান্ডে অবস্থিত। আন্ডারপাসগুলোর মধ্যে জালকুড়ি ও শিবু মার্কেট থেকে বড় ট্রাক ও লরি চলাচল করতে পারে। তবে ভুইগড়ের আন্ডারপাসের উচ্চতা নিচু হওয়ায় সেখানে কেবল স্বল্প উচ্চতার যানবাহন চলাচল করতে সক্ষম।
গুরুত্বপুর্ন এসব চার রাস্তার মোড়ে আন্ডারপাস নির্মান করা হলেও এখানে দিন রাতের বড় একটি সময় লেগে থাকে যানজট। বিশেষত কর্মস্থলে গমন ও ফেরার সময়গুলোতে দেখা দেয় অসহনীয় যানজট। যানবাহনের এলোমেলো চলাচলের কারনে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয় যাত্রীদের। এমনকি মানুষ পায়ে হেটে আন্ডারপাসের নিচে চলাচল করতে ভোগান্তিতে পড়েন।
শিবু মার্কেট আন্ডারপাসের পশ্চিমে পোস্ট অফিস মুখী সড়ক, পূর্বে হাজীগঞ্জ মুখী সড়ক। মূলত পোস্ট অফিস মুখী সড়কে যানবাহনের চাপ বেশী থাকে। সাইনবোর্ড, হাজীগঞ্জ ও চাষাঢ়া থেকে আসা যানবাহনগুলো সড়কে প্রবেশ এবং বের হবার পথে আটকে থাকে দীর্ঘ সময়।
এছাড়া ইজিবাইক ও লোকাল বাসগুলো যাত্রী তোলার জন্য দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট বাড়ে কয়েকগুন। পাশাপাশি উল্টো পথে এসে আন্ডারপাসে প্রবেশ করার অভিযোগও রয়েছে আইন না মানা চালকদের বিরুদ্ধে।
একইভাবে জালকুড়ি আন্ডারপাসের পশ্চিমে পাগলামুখী সড়ক, পুর্বে দশপাইপ মুখী সড়ক। সাইনবোর্ড, সিদ্ধিরগঞ্জ, চাষাঢ়া থেকে আসা যানবাহনগুলো পাগলামুখী সড়কে প্রবেশ ও বের হবার পথে তৈরী হয় যানজট। এখানেও রয়েছে যথারীতি ইজিবাইক ও সিএনজি স্ট্যান্ডের ভোগান্তি।
নেই ট্র্যাফিক, ইচ্ছেমত চলাচল
যাত্রীরা বলছেন, দুইটি স্ট্যান্ডে ট্র্যাফিক পুলিশের কোন উপস্থিতি দেখা যায়না। দুইটি স্থানে ট্র্যাফিক পুলিশ বক্স থাকলেও এখানে পুলিশ সদস্যদের কোন কার্যক্রম নেই। অথচ ট্র্যাফিক পুলিশের উপস্থিতি থাকলে এই বিশৃঙ্খলা একেবারেই থাকতো না। পুলিশের অনুপুস্থিতির সুবাদে আইন অমান্য করা চালকরা ইচ্ছেমত গাড়ি প্রবেশ ও বের করছেন আন্ডারপাস দিয়ে। এতে তৈরী হচ্ছে জটলা, যানবাহন আটকে থাকছে ঘন্টার পর ঘন্টা।
আন্ডারপাসের নিচে যানজট থাকার কারনে অনেক চালক ছুটেন উল্টো পথে। বিশেষত সার্ভিস লেন ধরে উল্টো পথে চলাচল করতে দেখা যায় মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ব্যক্তিগত গাড়িকে। সুযোগ পেলে ট্রাকও ছুটে চলে উল্টোপথে। বেপরোয়া ইজিবাইকগুলোকে কখনও কখনও ওভারপাসের উপরেও উল্টোপথে চলাচল করতে দেখা যায়।
একদিকে যানজট, অন্যদিকে উল্টোপথে চলাচল। উভয় মিলিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের আদলে নির্মান করা ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড হয়ে পড়েছে অনিরাপদ। প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন যাত্রী ও পথচারীরা। একদিকে যেমন যানজটে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে আধুনিক সড়কও হয়ে পড়ছে অনিরাপদ।
যা বলছেন কর্মকর্তারা
নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্র্যাফিক বিভাগের পরিদর্শক মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন খান বলেন, ‘আমাদের ট্র্যাফিক বক্স থাকলেও সেখানে এখন সদস্য নেই। আমাদের জনবল সংকট থাকার কারনে সেখান থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। এই দুইটি স্পট সহ ভুলতা ও বরপা স্ট্যান্ডে যানজট হয়। সম্প্রতি পুলিশ সুপার আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন কোন কোন স্থানে যানজট হয় সেই তালিকা করতে। আমরা ইতোমধ্যে এই বিষয়ে কাজ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে এসব স্থানে আমরা ট্র্যাফিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করবো। কোনভাবেই যেন যানজট তৈরী না হয় এবং উল্টোপথে যান চলাচল করতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি থাকবে। আমি সম্প্রতি ১ মাস হলো নারায়ণগঞ্জ জেলায় যুক্ত হয়েছি। আমরা প্রথমেই শহরের যানজট নিরসনে মনোযোগ দিয়েছি। ইতোমধ্যে সেটা আপনারা দেখতে পেয়েছেন। আশা করছি বাকি স্থানগুলোর যানজটও আমরা নিরসন করতে পারবো।’










