বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কার কী ভূমিকা ছিল এবং কারা কীভাবে বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে খোঁজখবর রয়েছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। উসকানি বা অর্থের জোগান দিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা সহজে মেনে নেওয়া হবে না।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।

চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদকে ইঙ্গিত করে আজাদ বলেন। কিছু কিছু বাক্য এসেছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, জন্মদিন উপলক্ষ্যে টাকা দিতে হয়। এরকম কোনো টাকা আমাদের দলকে দিতে হয় বলে আমার জানা নেই। আমি ওই নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে একটু জানতে চাই যে, কারা চাচ্ছে তাদের নাম একটু মেনশন করে বলুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা ওদের বিরুদ্ধে প্রোপার ব্যবস্থা নেব।

তিনি আরও বলেন, কাউকে হেনস্তা করার জন্য, নিজের ইমোশনকে কাজে লাগিয়ে কোনো উস্কানি দেওয়ার জন্য আমরা কোনো বাক্য বলব না। যে বাক্যটা শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনি সেই বাক্যটার ইমপ্লিমেন্ট যদি করতে পারেন। তাহলে আপনি আপনাকে দিয়ে শুরু করেন। আপনি উদাহরন হলে আমরা আপনার পেছন পেছন হাটবো।

শ্রমিকদের বেতন প্রসঙ্গে আজাদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের যদি ভালো ক্রয়াদেশ থাকে, তাহলে সেখানে তুলনামূলক বেশি বেতন দেওয়া সম্ভব। ভালো কোনো বায়ারের কাজ করলে এক লাখ টাকা বেতন দিতেও সমস্যা হবে না। কিন্তু বাংলাদেশে মালিকরা যে ধরনের বায়ারের কাজ করেন, সেখানে দাম ও লাভের পরিমাণ সীমিত। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে শ্রমিকদের বেতন নিয়ে মন্তব্য করলে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে।

অসন্তোষের সময় এনসিপির এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনকে পাশে প্রত্যাশা করেছিলেন বলে জানান এমপি আজাদ। আল আমিনকে ভালো ও হাস্যোজ্জ্বল মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদে দেখা হলে আমাদের সুন্দর কথাবার্তা হয়। আল আমিন নিজেও যেহেতু এমপি, তাই এই আন্দোলনে আমি তাকে আশা করেছিলাম। যেহেতু তার নির্বাচনী এলাকায় আমি যাচ্ছি, সেখানে আমি তাকে সাথে পাবো, এই চিন্তা করেছিলাম। একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হলে সংসদ সদস্যরাও ভুক্তভোগী হন। আগামীতে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করি।

সভায় বিকেএমইএর নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আজাদ। তিনি বলেন, ‘এইখানে তাদের কেউ উপস্থিত থাকার দরকার ছিল। যে মেট্রো গার্মেন্টস নিয়ে এত আলোচনা, সেই মেট্রোর মালিক অমল সাহেব তো বিকেএমইএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ওনার উপস্থিত থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’