নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কাঠেরপুলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নতুন এই মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ৩০০ জনকে আসামি করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে কাঠেরপুল থেকে শিবু মার্কেট এলাকায় সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়ের করা হয়। ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। এই মামলায় শিবু (৪২) নামে এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নতুন মামলার অভিযোগে বলা হয়, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ শ্রমিক কাঠেরপুল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করেন।

বিক্ষোভকারীদের একাংশ সড়কে আগুন দেন। পরে তাঁদের একাংশ ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও বিভিন্ন যানবাহনের কাচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ২০৩টি লং শেল, ৪৪টি শর্ট শেল, ২৪টি সাউন্ড গ্রেনেড, দুটি কালার স্মোক গ্রেনেড ও পাঁচটি টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। এতে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

মামলায় নাম থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ, শাহাদাত হোসেন সেন্টু, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি টিপু সুলতান, যুবলীগ নেতা আজমত আলী, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু ও ওয়াসিম, আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর এবং ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ, সেলিম।

এছাড়া মিরু হোসেন ওরফে ল্যাংড়া মিরু, রঞ্জিত মণ্ডল, ইব্রাহীম চেঙ্গীস ওরফে চেঙ্গীস খান, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান, নাজিম উদ্দীন সরদার, আবু শরিফুল হক, শামীম, ইমরান হোসেন শুভ ওরফে চান শুভ, আল আমিন কবির, জাকারিয়া জাকির ওরফে জাকির মেম্বার, রতন, রাকিব ও রাজ্জাকের নাম রয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় শিবু নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় এসআই মিলন ফকির বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দেড় হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।