তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৬৪ মাস উপলক্ষ্যে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট এই আয়োজন করে।

কর্মসূচীতে নিহত ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি বলেন, সরকার বদল হলেও বিচার ব্যবস্থায় কোন পরিবর্তন আসে নি। এখনো শেখ হাসিনার ধ্বংস করে রেখে যাওয়া বিচার ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা চলছে। ক্ষমতা নির্বিঘ্ন করার জন্য ইতিপূর্বে সব সরকারই বিচার ব্যবস্থাকে হাতিয়ার করেছে, এখনো তাই চলছে। আমরা বিচার বিভাগ থেকে নির্বাহী বিভাগকে আলাদা দেখতে চাই। বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা চাই।

শেখ হাসিনা ওসমান পরিবারকে রক্ষা করার জন্য এ হত্যার বিচার সাড়ে ১১ বছর বন্ধ করে রেখেছিল, কিন্তু এখন বিচার হচ্ছে না কেন? অভিযোগপত্র জমা পড়ছে না কেন? তবে কি এই সরকারেরও কেউ কেউ তাদের রক্ষা করতে চাচ্ছে? আমরা দেখছি সরকার দলের কেউ কেউ ওসমান পরিবারের লোকদের এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে শাসকদলের লোকজন। আমরা মনে করছি এইসব লোকজনই অর্থের বিনিময়ে ত্বকী হত্যার বিচার বাধাগ্রস্থ করছে।

নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেশে একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায় নি। অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধী যখন বিচারের আওতায় আসে না তখন সে অপরাধীই রাষ্ট্রের শাসক হয়ে ওঠে। ত্বকীর ক্ষেত্রে তাই ঘটেছে। তিনি বলেন, শহীদ ত্বকী আমাদের প্রজন্মের নাগরিক, তের বছরেও তার বিচার না হওয়া কোন সাভাবিক ঘটনা নয়, এইটি একটি রাষ্ট্রের চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমরা ত্বকীসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই, চব্বিশের অভ্যুত্থানে নিহত রিয়া গোপের বিচার চাই।

সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রথীন চক্রবর্তী, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এড. মাহাবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা প্রদীপ ঘোষ বাবু, সিপিবির সাবেক জেলা সভাপতি হাফিজুর ইসলাম, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, বাসদ জেলা সংগঠক এসএম কাদের, মহিলা পরিষদ নেত্রী শোভা সাহা, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।

ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরুর ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।