নারায়ণগঞ্জ জেলার সাতটি থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাত সদস্যসহ ১০৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মাদকসেবী ও মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, ছিনতাইকারী, ডাকাত এবং বিভিন্ন মামলার আসামি রয়েছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তার ১০৯ জনের মধ্যে ৫৯ জন মাদকসেবী, ছয়জন মাদক ব্যবসায়ী, তিনজন কিশোর গ্যাং সদস্য, একজন ছিনতাইকারী ও দুজন ডাকাত রয়েছেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ২২ জন, নিয়মিত মামলার চার আসামি, অন্যান্য আইনে পাঁচজন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে সাতজন মাদকসেবী, তিনজন মাদক ব্যবসায়ী, তিনজন পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও একজন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সদস্য। এ সময় ৯৫টি ইয়াবা এবং তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় ২৮ জনকে। তাদের মধ্যে ১৫ জন মাদকসেবী, তিনজন কিশোর গ্যাং সদস্য, আটজন পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দুজন সদস্য রয়েছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযানে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন মাদক ব্যবসায়ী, একজন ছিনতাইকারী, ছয়জন পরোয়ানাভুক্ত, দুজন নিয়মিত মামলার আসামি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দুজন সদস্য রয়েছেন। এ অভিযানে ২৫৮টি ইয়াবা বড়ি জব্দ করা হয়।

বন্দর থানায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন মাদকসেবী, একজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং অন্যান্য আইনে পাঁচজন।

সোনারগাঁও থানার অভিযানে গ্রেপ্তার ২০ জনের মধ্যে ১৬ জন মাদকসেবী, তিনজন পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একজন সদস্য।

রূপগঞ্জ থানায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন মাদকসেবী, একজন মাদক ব্যবসায়ী, একজন নিয়মিত মামলার আসামি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একজন সদস্য রয়েছেন। এ সময় ৫০০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, আড়াইহাজার থানার অভিযানে ডাকাতির অভিযোগে দুজন, নিয়মিত মামলার একজন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে একজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার।

জেলা পুলিশের হিসাবে, এসব বিশেষ অভিযানে সব মিলিয়ে ৮৫৩টি ইয়াবা ও তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।