ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের বিস্তার ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ২৭টি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ওয়ার্ডগুলোর মশক নিধনকর্মীদের জন্য হ্যান্ড স্প্রে, হ্যান্ড মাইক এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নগর ভবনের পঞ্চম তলার সম্মেলন কক্ষে নাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে মশক নিধনকর্মীদের হাতে সরঞ্জাম তুলে দেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান।

এ সময় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মশক নিধনকর্মীদের পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই তিন ওয়ার্ডে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি।

এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার আলতা মাশুল ইসলামকে ২ হাজার টাকা এবং ১৫ জন মশক নিধনকর্মীকে এক হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।

এ ছাড়া নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের মাঠকর্মীদের গ্লাভস, গামবুট ও মাস্কসহ বিভিন্ন সুরক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে হ্যান্ড মাইক এবং দুটি করে হ্যান্ড স্প্রে দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত তিন-চার মাস ধরে নিয়মিত মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সময়ে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় ৫০০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যু হয়নি।

তিনি আরও বলেন, কোনো এলাকায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলে আক্রান্ত ব্যক্তির বাসস্থানকে কেন্দ্র করে ২০০ গজের মধ্যে বিশেষ মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করতে হবে। আক্রান্ত এলাকা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

ওয়ার্ড সচিবদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, মশক নিধন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ওয়ার্ড সচিবদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ওয়ার্ডে মশার কারণে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিতে হবে।

মশক নিধনকর্মীদের কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, তারা নগরবাসীকে ডেঙ্গুর মতো ভয়াবহ রোগ থেকে সুরক্ষায় সরাসরি মাঠে কাজ করছেন। কোনো এলাকায় ডেঙ্গু রোগী না থাকা তাদের দায়িত্ব পালনের সাফল্য ও দক্ষতার প্রতিফলন।

এ সময় প্রতি শনিবার নিজ নিজ ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার জন্য ওয়ার্ড সচিবদের নির্দেশ দেন তিনি। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রশাসক।

সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, নাসিকের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ জন এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে ২ নম্বর ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে বিশেষভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত না হলেও ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে রোগী পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট তিন ওয়ার্ডকে একসঙ্গে বিবেচনা করে পুরস্কারের আওতায় আনা হয়নি। একই কারণে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে রোগী না থাকলেও ২৫ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে রোগী শনাক্ত হওয়ায় ওই তিন ওয়ার্ডও পুরস্কার পায়নি।

মাঠপর্যায়ের মশক নিধনকর্মীদের উৎসাহ বাড়াতেই এ পুরস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রশাসক। ভবিষ্যতে যেসব ওয়ার্ড ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা শূন্যে রাখতে সক্ষম হবে, সেসব ওয়ার্ডকেও পুরস্কৃত করা হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম, নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ডা. শেখ মোস্তফা আলী, সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সচিব ও মাঠপর্যায়ের মশক নিধনকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।