‘বাবা, কালকেই তো আমাকে সাজুগুজু করাবে, আমি শাড়ি পরব, গয়না পরব, সবাই আমাকে দেখবে!’ আনন্দ আর উত্তেজনায় ঠিক এভাবেই কথাগুলো বলছিল ছয় বছর সাড়ে ছয় মাসের ছোট্ট শ্রেয়সী ভট্টাচার্য।
মা-বাবার কোল আলো করে থাকা এই শিশুটি হয়তো ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেনি কুমারী পূজার মাহাত্ম্য কী, কিন্তু দেবী দুর্গার জীবন্ত প্রতিরূপ হয়ে পূজার আসনে বসার আনন্দ তার ছোট্ট মনটাকে এখন পুরোপুরি রাঙিয়ে দিয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) চাষাঢ়া মিশন পাড়ায় অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ‘কুমারী পূজা’। আর এই পূজাতেই দেবী দুর্গার জীবন্ত প্রতীক হিসেবে কুমারীর আসনে বসতে চলেছে ছোট্ট শ্রেয়সী।
শ্রেয়সীর বয়স ৬ বছর ৬ মাস ১৮ দিন। ভরদ্বাজ গোত্রের এই শিশু বর্তমানে চাষাঢ়ার বেইলী টাওয়ারে অবস্থিত ‘আনন্দ ভুবন’ স্কুলের প্রাক্-প্রথম শ্রেণীতে (প্রি-ওয়ান) অধ্যয়নরত। তার বাবা ডা. সুমন ভট্টাচার্য এবং মা অর্পিতা ভট্টাচার্য। শ্রেয়সী ভট্টাচার্য নগরীর গলাচিপা এলাকার নিবাসী।
রাত পেরুলেই শ্রেয়সী বসবে কুমারী পূজায় দেবীর আসনে। বাবার চোখে মেয়ের আনন্দ যেন এক রূপকথার মতো। সুমন ভট্টাচার্য নিজের ও তার পরিবারের উচ্ছাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার খুব আনন্দ লাগছে। আমরা তো আসলে কখনো এটা ভাবতে পারেনি। কিন্তু আমার মা-বাবারগভীর ইচ্ছা ছিল আমার মেয়ে কুমারী হোক। আজ সেই ইচ্ছা পূর্ণ হতে চলেছে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা ছিল বলেই আজ এটা সম্ভব হচ্ছে।’
রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী একনাথানন্দ জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় বিধিবিধান মেনে কুমারী পূজার যাবতীয় প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। দেবী দুর্গার জীবন্ত প্রতিরূপ হিসেবে কুমারীকে বন্দনা করতে এবং এই অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হতে আগামীকাল আশ্রম প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।










