নভেম্বরের আগমনী বার্তায় বাজারে শীতের নতুন সবজি উঁকি দিতে শুরু করেছে। অথচ সেই সবজি কেনার আনন্দের চেয়ে দামের উত্তাপে সাধারণ মানুষের হাত পুড়ছে। বাজারের থলে হাতে শীতকালীন শাকসবজির ভিড়ে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পাচ্ছেন না নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ক্রেতারা। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য মেলাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর।

নারায়ণগঞ্জ নগরীর দিগুবাবু বাজার সহ একাধিক বাজার ঘুরে চোখে পড়ে পণ্যের দাম আর মানুষের চাহিদা পূরণের মাঝে বিস্তর ফারাকের চিত্র।

বাজারে সবজি থরে থরে সাজানো। কিন্তু দাম শুনে ক্রেতাদের মুখে চওড়া হচ্ছে উদ্বেগের রেখা। ক্রেতারা বলছেন, শীতকালীন সবজি বাজারে আসতাছে, তারপরও কেন কাকরল ৭০- ৮০ টাকা কেজি কিনতে হবে। আবার বেগুন কিনতে হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে।

এদিকে সবজির চড়া দামে পকেটের হাঁসফাঁস অবস্থা দেখে মাছ আর মাংসের বাজারের পথ এড়িয়ে চলছেন অনেকে। কাঁচা বাজারে সবজি কেনা শেষ হতেই অধিকাংশ ক্রেতাকে দেখা গেল মাছ-মাংসের গলির দিকে শুধু একঝলক তাকাচ্ছেন, তারপর মুখ ফিরিয়ে হেঁটে চলছেন বের হওয়ার পথের দিকে।

তেমনই একজন ক্রেতা জেলা পরিষদের বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান। আক্ষেপের গলায় তিনি বলেন, ‘যে বেতন পাই, তা দিয়ে তেলাপিয়া আর পাঙ্গাস খাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। অথচ এই দুই পদের মাছের কেজি এখন প্রায় ৩০০ টাকা ছুঁইছুঁই। সেখানে রুই, খাসি কিংবা গরুর মাংসের দাম শুনে তো আমার কোনো লাভ নেই। মাংসের বাজারের দিকে আর যাই-ই না!’

দিগুবাবু বাজারে আসা ক্রেতা শহীদুল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাজারে শীতের সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে দাম এখনও কমেনি। দুই একটা কম দামে পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ সবজির দাম বেশ চড়া। সবজি কমেও পাওয়া যায় কিন্তু সেগুলো মান খারাপ থাকে। মাঝেমধ্যে এগুলো নিয়েই বাসায় ফিরি।’

বাজারে বর্তমানে বেগুনের কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, আর টমেটো ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। বরবটির কেজি স্থানভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। একটু স্বস্তি বলতে প্রতি কেজি পেঁপে ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকায় মিলছে। শাকের বাজারে লালশাক ৩০ টাকা আঁটি আর লাউশাক ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ও মাংসের বাজারে গিয়ে তো সাধ আর সাধ্যের ফারাক আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চাষের পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া ২৬০ থেকে ২৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও ভালো মানের রুই মাছ কিনতে গুণতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, অপরিবর্তিত আছে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংসের কেজি ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। সঙ্গে এক ডজন ডিমের জন্য খরচ করতে হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা।

ক্রেতাদের প্রধান অভিযোগ, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঘন ঘন বাড়লেও সে অনুপাতে সামান্যতমও আয় বাড়ছে না। ফলে দৈনন্দিন জীবনের বাজেট সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। একসঙ্গে দুই-তিন পদের বেশি পণ্য কিনতে গেলেই পকেটের হিসাব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সরবরাহের অজুহাত দেওয়া হলেও ক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। ক্রেতাদের দাবি, বাজারে পণ্যের ঘাটতি নেই, সরবরাহ স্বাভাবিকই আছে। কিন্তু তদারকির অভাবে একশ্রেণির ব্যবসায়ী কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে রাখছেন। অনতিবিলম্বে বাজারে তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা।