নারায়ণগঞ্জে ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে বন্ধন ও উৎসব বাসের চালকরা। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে রাজধানীর রায়েরবাগে একটি সিএনজিকে চাপা দিয়ে চালক নিহত এবং শহরের ৫ নাম্বার ঘাটে রিক্সা চালককে পিষে মেরে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।

এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে বাস চালকদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে। সড়কে চলাচলরত এসব বাসের চালকরা সুস্থ মস্তিষ্কে বাস পরিচালনা করছেন নাকি মাদক বা ভিন্ন কিছুর সংস্পর্শে হয়ে উঠছেন বেপরোয়া? সাধারন মানুষের প্রাণহানীর ঘটনার পর দাবী উঠছে এসব চালকদের ডোপ টেস্টের আওতায় নিয়ে আসতে।

অক্টোবর মাসের ১৬ তারিখ রাতে রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায় বন্ধন পরিবহনের একটি বাস চাপা দেয় যাত্রীবাহী সিএনজিকে। এই ঘটনায় সিএনজি চালক নিহত হয়েছেন। আহত হন সিএনজিতে থাকা আরও দুই যাত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে গুলিস্তানগামী বন্ধন পরিবহনের একটি বাস রায়েরবাগ এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে বেপরোয়া গতিতে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিচালক ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি নারায়ণগঞ্জের বাস আটকে বিক্ষোভ করেন তারা।

সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ৩১ অক্টোবর শহরের পাঁচ নাম্বার ঘাট এলাকায় বেপরোয়া গতিতে পাঁচটি অটোরিকশা চাপা দেয় উৎসব ট্রান্সপোর্টের বাস। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে চলাচল করা উৎসব কোম্পানির একটি বাস যাত্রী নামিয়ে টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল। চালক বেপরোয়া গতিতে বাসটি চালাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা পাঁচটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়।

বাসের ধাক্কায় রিকশাগুলো ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে রিকশাচালক ও পথচারী সহ ৪ জন আহত হয়। গুরুতর আহত রিকশা চালক আতিককে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে তিনি মারা যান।

নগরবাসী বলছেন, দুইটি ঘটনায় দুজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। যাদের সারাজীবন এই দুর্ঘটনার ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে। আর বাসের বেপরোয়া চালকরা সড়ক আইনে মামলার আসামী হলেও অল্পদিনেই জামিন নিয়ে ফের বসবে বাসের চালকের আসনে। যারা আবারও ঘটাবে দুর্ঘটনা।

আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি হাজী নূর উদ্দিন বলেন, ‘বাস চালকদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনা উচিৎ। অধিক ট্রিপ মারার মানসিকতা থেকে দ্রুত বাস চালানোর প্রতিযোগীতায় নামে তারা। কেউ কেউ ঘুম যেন না আসে সেজন্য মাদক সেবন করেন এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগ প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিৎ। বাস চালকদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনলে এই ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে।’