এককালে ফতুল্লা থানা যুবলীগ নেতা মীর সোহেলের ঘনিষ্ট অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলো রাজীব। প্রতিটি কর্মসূচীতে মীর সোহেলের আশেপাশেই দেখা মিলতো তার। এরপর সেই ছবি ব্যবহার করে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় অপকর্মের অবাধ রাজত্ব গড়ে তুলে। আওয়ামী লীগের মিছিল মিটিং এ যাওয়ার সুবাদে নেতা বনে যায় রাজীব।
পেশায় কি কাজ করে রাজীব তা কেউই জানেনা। তবে ধর্মগঞ্জ এলাকায় নিজের অফিস ও ক্লাব খুলে বসেছে সে। সেই ক্লাবে বসে চলে নানান বিচার আচার। বিচারে পক্ষ নিয়ে মোটা অংকের টাকা লেনদেন ঘটে। প্রতিপক্ষকে হুমকি ধামকি দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখতো। এছাড়া কোথাও কাউকে বিপদে ফেলার সুযোগ থাকলে সেখানেই দেখা মিলতো রাজীবের। তাই এলাকায় ফিটিংবাজ রাজীব হিসেবেই পরিচিত সে।
৫ আগস্টের পর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সাথে নিজেও গা ঢাকা দেয় রাজীব। তবে মাস তিনেক পরেই স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে এলাকায় ফেরত আসে সে। কিছুদিন নীরব থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহুর্তে আবারও মাথাচারা দিয়ে উঠে রাজীব। পুর্বের মত এলাকার ভিতরে চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রন, ফিটিংবাজি, বিচারের নামে নিরীহ মানুষকে অত্যাচার সহ নানান অপকর্মে জড়িত ছিলো সে।
তবে এসব অপকর্মের পরেও কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। এর নেপথ্যে একমাত্র কারন ছিলো তার ছবি বানিজ্য। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে সেই ছবি প্রচার করতো। ছবি দেখিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানের খবর ছড়িয়ে দিতো। সেই সাথে এলাকায় নিজেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতো সবাইকে।
একাধিক প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মীর সোহেলের সাথে তার বিভিন্ন ছবি রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি জোট সমর্থিত মনির হোসেন কাশেমীর পাশে দাঁড়ানো ছবি, সাবেক জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাকির খানকে ফুল দেয়ার ছবি, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ চৌধুরীর পাশে দাঁড়ানো ছবি, ফতুল্লা থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রুহুল আমীন শিকদারের পাশে দাঁড়ানো ছবি থেকে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নেয়ার ছবি।
এসব ছবি পুজি করেই এলাকায় অপকর্ম করে বেড়াতো রাজীব। যার সবশেষ নজির স্থাপন করেছে একজন নারীকে ক্লাবে ধর্ষণের ঘটনার মধ্যদিয়ে। এই ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, নিজ ক্লাবের কর্মী লাবনীর মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারী ও তার চাচাতো বোনকে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব পাঠায় রাজীব। সেই প্রস্তাবে বিরক্ত হয়ে বাসা ছেড়ে চলে যায় ভুক্তভোগী। জামা কাপড় নিয়ে আসলে তাকে আটকে মারধর করে রাজীবের কর্মী লাবনী ও তার স্বামী টিটু। এরপর তাকে ক্লাবে নিয়ে আটকে রেখে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করে রাজীব। সেই সাথে তার আরেক অনুসারী রাসেল ভুক্তভোগীর চাচাতো বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এরপর তাদের আটকে রেখে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে একটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মিথ্যা বয়ান লিখে তাতে ভুক্তভোগীদের জোড়পূর্বক স্বাক্ষর আদায় করার অভিযোগ উঠে রাজীবের বিরুদ্ধে।
মামলার সত্যতা স্বীকার করে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘এই ঘটনায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। সে আগে আওয়ামী লীগ করতো। সম্প্রতি বিএনপিতে ঘেঁষার চেষ্টা করছিলো। তবে বিএনপির নতুন কোন কমিটি হয়নি।’










