নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নারী ও পুরুষ ওয়ার্ড মিলিয়ে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বেড সংখ্যা ২০ টি। প্রতিদিনই এই হাসপাতালে গড়ে ৬ থেকে ৭ জন করে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। পুরোনো ও নতুন রোগীর চাপ সামলাতে ওয়ার্ডের বাইরে বসানো হয়েছে বেড। কেউ কেউ ফ্লোরে শুয়েই নিচ্ছেন চিকিৎসা।
ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স প্রাইম নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘এই বছরের মত এত ডেঙ্গু রোগীর চাপ আমি আগে দেখিনাই। সার্জারি ওয়ার্ডের ভেতরেও ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেয়া লাগছে। দিনে যদি ১০ জন রোগী ভর্তি হতে আসে, তার ৯ জনই হচ্ছে ডেঙ্গু রোগী।’
ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের এই চিত্র কেবল শহরের নয়। শহরের বাইরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ডেঙ্গু রোগীদের বাড়তি চাপ। একসময় ডেঙ্গুকে বলা হতো শহরের রোগ, কিন্তু এখন তা গ্রাম অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রকোপ বেশী থাকলেও এখন ইউনিয়ন অঞ্চলেও সমানতালে রোগী বাড়ছে।
জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমন বৃদ্ধির কারন কি তার কোন সঠিক ব্যাখ্যা নেই সরকারিভাবে। সিটি করপোরেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলছেন, এডিস মশার আচরণ পাল্টেছে। এই মশাগুলো আগে দিনের বেলা কামড়ালেও এখন রাতেও তারা কামড়াচ্ছে। এছাড়া পরিস্কার পানির পাশাপাশি ময়লা পানিতেও ডিম ছাড়ছে তারা। যেসব ঔষধ দেয়া হচ্ছে সেগুলোতেও পুরোপুরি নির্মূল করা যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত এর ভ্যারিয়েন্ট পাল্টে যাওয়ায় মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
গত আগস্ট মাসে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে মোট ১২৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে। সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯২ জনে। চলতি অক্টোবরের ১৯ তারিখ পর্যন্ত হাসপাতালে ১৩৮ জন ভর্তি হয়েছেন ডেঙ্গু উপসর্গে। অর্থ্যাৎ ডেঙ্গুর সংক্রমন ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে শুষ্ক মৌসুম শুরু হলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ কমেনি। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার পানি জমে থাকায় এডিস মশা ডিম পাড়ে এবং সেই সাথে বাড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমন। তবে শুষ্ক মৌসুম তথা শীতকালের দিকে এর প্রকোপ কিছুটা কম থাকে। কিন্তু এবার শুষ্ক মৌসুমেও ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না। যা চিন্তায় ফেলেছে কীটতত্ববিদদের।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে কাশিপুর বাংলাবাজার থেকে এসেছেন মজিবর রহমান। তিনি বলেন, ‘দুইদিন ধরে প্রচুর জ্বর আর হাত পা সব ব্যাথা। কালকে পরীক্ষা কইরা দেখছি প্লাটিলেট ১ লাখ ২০ হাজারে নামছে। এরপরেই হাসপাতালে ভর্তি হইছি। আজকে আবার পরীক্ষা করবো। জ্বর ছাড়ে আবার আসে।’
মা’কে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন মেয়ে শ্রাবনী আক্তার। বাড়ি ফতুল্লার লালপুরে। মায়ের অবস্থা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘শরীরে ১০২ ডিগ্রি জ্বর উঠে গেছিলো। ডেঙ্গু টেস্ট করাইছি কিছু ধরা পড়ে নাই। কিন্তু ডেঙ্গুর সব লক্ষন আছে। কেউ বলে চিকুনগুনিয়া হইছে। এখন শুধু প্যারাসিটামল আর স্যালাইন চলছে। আজকে অবস্থা আগের চাইতে ভালো।’
এদিকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে রোগী সংকুলান না হওয়ায় ওয়ার্ডের বাইরে নতুন বেড বসানো হয়েছে। সেই সাথে মজুদ রাখা হয়েছে ফ্লোরিং বেড। নতুন রোগী এলে প্রথমে স্থান হচ্ছে সেই ফ্লোরিং বেডে। এরপর ওয়ার্ড থেকে কোন রোগী ছাড়পত্র পেলে সেই স্থানে জায়গা হয় নতুন রোগীদের। এভাবেই চলছে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা।
নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, ‘রোগী সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও আমাদের চিকিৎসা সেবা অব্যহত রয়েছে। এখানে ঔষধ বা মেডিকেল সরঞ্জামের ঘাটতি নেই। সবাইকে স্যালাইন ঔষধ সহ পর্যাপ্ত সেবা দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’










